“আলোচিত জাল-বসনা-বাসন্তী ও কিছু কথা” – মারুফ আহমেদ



সংক্ষেপে বাসন্তী ইস্যুঃ ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের ট্রাজেডির নাম ‘বাসন্তী’। কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় এক জেলে পরিবারের বাক প্রতিবন্ধী মেয়ে বাসন্তীরজাল পরে লজ্জা নিবারণের ছবি প্রকাশিত হয় দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায়। আর সেই বহুল আলোচিত এবং বিতর্কিত ছবির ফটোগ্রাফার ছিলেন ইত্তেফাকেরই নিজস্ব আলোকচিত্রি আফতাব আহমেদ। অনেকে ছবিটিরনাম দিয়েছেন “জাল-বসনা বাসন্তী”।


ছবিটিতে দেখানো হয় বাসন্তী ও দুর্গাতি নামের দুই যুবতী মেয়েকে। অভাবের জন্য যারা সম্ভ্রম রক্ষা করতে পারছিল না। ছবিতে বাসন্তীর পরনে ছিল একটি মাছ ধরার জাল। এই ছবি তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ ও বঙ্গবন্ধু সরকারকে রাজনৈতিক সংকটে ফেলে দিয়েছিল। দেশের আনাচে কানাচে দুর্ভিক্ষের আগমনী বার্তা পৌঁছে দেয়। পৃথিবীর গভীরতর বেদনার ক্ষতগুলো যেমন প্রতিদিন কালো অক্ষরের ফুল হয়ে ফুটে থাকে খবরের কাগজের পাতায় পাতায়।

তেমনি এদেশের রাজনীতির ইতিহাসে একটি বেদনাময় অধ্যায়ের নাম ‘বাসন্তি’। এমন কি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বাসন্তি একটি মারাত্মক রাজনৈতিক ইস্যূতে পরিণত হয়ে যান।

আমার আলোচনার বিষয়বস্তু বাসন্তীর ছবি নিয়ে নয়, বর্তমান বাসন্তীকে নিয়ে। আমরা কুড়িগ্রামবাসীরা বরাবরই আলোচিত হয়ে আসছি কখনও বাসন্তী আবার কখনওবা বানভাসী হয়ে। সর্বউত্তরের অবহেলিত এই জনপদ “কুড়িগ্রাম” আজ স্বাধীনতার অর্ধশতক পরও আমরা রয়ে গেছি সবার পিছনে। কুড়িগ্রামে হয়ত আগের মত আর মঙ্গা নেই, কিন্তু দারিদ্র্যতার অভিশাপ পিছু ছাড়েনি এই জনপদের। স্বাধীনতার ৪৫বছর পরও ৬৩.৬৭ভাগ দারিদ্র্যে ডুবে আমরা। যেখানে দেশের অন্যান্য সব জেলা যোগাযোগ ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে এগিয়ে ক্রমে ক্রমে যাচ্ছে উন্নতির দিকে। উন্নয়নের আলোয় আলোকিত হচ্ছে গোটা দেশ। কিন্তু বাসন্তী তথা কুড়িগ্রাম!! ভাগ্য ফিরেছে কি কুড়িগ্রামের বাসন্তীদের?? বাসন্তী আজও ত্রানের জন্য হাত পাতে, ১০টাকা কেজি চালের জন্য লাইনে দাড়াতে হয় তাকে। কুড়িগ্রাম জেলার বর্তমান অবস্থা জানানোর জন্য কি কোন পরিসংখ্যান দেখানোর প্রয়োজন আছে!! একা বাসন্তীই কি যথেষ্ঠ নয় কুড়িগ্রামের দূরঅবস্থা প্রকাশ করতে??

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ক্ষমতায় আসার পর থেকে আপনি যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করে স্বল্প আয়ের বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর করার প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছেন তা অবশ্যই চমকপ্রদ। আশা করা যায় ভিশন-২০২১ সফল হবে। কিন্তু কুড়িগ্রাম?? আপনার উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের মানচিত্রে অন্যান্য জেলাগুলো উজ্জল তারার মত জ্বলজ্বলে করে জ্বলবে, ঠিক সেই মানচিত্রের এক কোণে হারিকেনের মিটিমিটি আলোয় জ্বলতে থাকা কুড়িগ্রাম কি উন্নয়নের মানচিত্রের সৌজন্য নষ্ট করবে না??? পুরো বাংলাদেশ যেখানে একটি দেহের মত, সেই দেহের কুড়িগ্রাম নামক অংশটি যদি বিকল হয় তবে পুরো দেহের কার্যকারীতায় ব্যঘাত ঘটবে। আপনি কুড়িগ্রামকে এগিয়ে নিতে নদীবন্দর চালু, শাটল ট্রেনের ব্যবস্থা ও ১০টাকায় চালসহ যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন সেসব দেখে প্রতিটি কুড়িগ্রামবাসীর মনে আবার নতুন করে স্বপ্ন জেগেছে। আপনিই পারবেন, আপনার দাড়াই সম্ভব বঙ্গবন্ধুর কাঙ্খিত “সোনার বাংলা “। আর সেই স্বপ্ন থেকেই বলছি, কুড়িগ্রামকে এগিয়ে নিতে আর কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় না? কুড়িগ্রামকে দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্ত করে আপনার টেকসই উন্নয়নের চমক দেখার আশায় রইলাম।


আপনার মন্তব্য

comments

Powered by Facebook Comments