২০ বছরেও ঠিক হয়নি গ্রামীনফোনের নেটওয়ার্ক!



কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দেখা দিয়েছে মোবাইলফোন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীনফোনের অত্যন্ত দূর্বল মোবাইল নেটওয়ার্ক। তালিকা ভুক্ত গ্রামগুলোে মধ্য শীর্ষে উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের নন্দুনেফড়া গ্রাম, নেফড়া, টিটমা, হোকডাঙ্গা, কাজির চক, কৃষ্ণ মঙ্গল, কালুডাঙ্গা সহ আশেপাশের প্রায় ২৫-৩০ টি গ্রাম। এছাড়াও তবকপুর,থেতরাই, ধামশ্রেনী, হাতিয়া, দলদলিয়া সহ উলিপুর উপজেলার প্রায় সবকয়টি ইউনয়নে গ্রামীনফোনের তথাকথিত নেটওয়ার্কিং সেবা অত্যন্ত নিম্নমানের।

এতে করে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের বার্তা আদান-প্রদানে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। একদিকে যেমন সময়ের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে গ্রাহকেরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কিছু কিছু জায়গায় অবস্থা এতটাই নাজুক যে মোবাইলফোন ব্যাবহার করতে ঘরতো দূরের কথা, কথা বলার জন্য ফাঁকা কোন যায়গায় স্থির হয়ে দাড়িয়ে কথা বলতে হয়, না হলে মোবাইলে কল আসবেও না যাবেও না! এছাড়া দূর্বল নেটওয়ার্কিংয়ের কারনে কথার মাঝখানে কল কেটে যাওয়া, ভেঙ্গে ভেঙ্গে কথা আসা তো আছেই।

এদিকে গ্রামীনফোন বাদে বাংলালিংক এবং রবির নেটওয়ার্ক তুলনামূলকভাবে ভাল কাজ করছে।

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, এত বড় একটি উপজেলায় প্রায় পঞ্চাশ হাজার ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জন্য উচ্চগতির ইন্টারনেট থ্রিজি রেঞ্জ মাত্র এক-দেড় কিলোমিটার যা মূলত দুইবছর আগের পরীক্ষামুলক থ্রি সার্ভিস।
উল্লেখিত রেঞ্জে গ্রামীণফোনের ইন্টারনেটের সর্বোচ্চ গতি প্রতি সেকেন্ডে ৫১২ কেবিপিএস থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে প্রতি সেকেন্ডে ৪০ কেবিপিএস থেকে ১২০ কেবিপিএস ডাউনলোড স্পিড এবং আপলোড স্পিড ১৫ কেবিপিএস থেকে ৩৫ কেবিপিএস ওঠানামা করছে । কোনো কোনো সময় তা শুন্যের কোঠায় এসে ঠেকছে। এতে ওয়েব ঠিকানায় ডুকতে, ই-মেইল বার্তা পাঠাতে, আপলোড কিংবা ডাউনলোড করতে গ্রাহকদের ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
শুধু তাই নয়, সর্বাধিক দ্রুত গতির সার্চ ইঞ্জিন নামে পরিচিত গুগলের হোমপেজ আসতে অনেক সময় প্রায় ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়।

এ ব্যাপারে গ্রামীণফোন কাস্টমার কেয়ারের (১২১, বাড্ডা হেড অফিস, কুড়িগ্রাম রিজিওনাল শাখা) সাথে বারবার কথা হলে তারা শুধু আশা দেয় সামনের দুই তিন মাসের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে, কিন্তু বাস্তবতা প্রায় তিন বছর একই কথা এবং একই পরিস্থিতি।

দেশের সর্ব-বৃহৎ ও শক্তিশালী নেটওয়ার্ক দাবীকারি কোম্পনীর যদি এই অবস্থা হয় তবে হতাশ হওয়া ছাড়া আর কিছু করার থাকে না।
সদ্য বিশ বছরে পদার্পন করল নেটওয়ার্ক কোম্পানীটি অথচ বিশ বছরেও সঠিক সেবাটুকু নিশ্চিত করতে পারে নি তারা।

চরম দূর্ভোগে পড়ে বাধ্য হয়ে অনেকেই বিকল্প পথ বেছে নিচ্ছে। হয়ত আমাকেও নিতে হবে।
কিন্তু সমস্যা থেকে পালায়ন কখনও সমস্যার সমাধান হতে পারে না।

গ্রামীনফোন কর্তৃপক্ষের কাছে শুধু এটুকুই জানতে চাই, আদৌ কি আপনারা পদক্ষেপ নিবেন? নাকি এভাবেই চলতে থাকবে আপনাদের তথাকথিত দেশের সব থেকে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক!!!!

[উল্লেখ্যঃ বাড্ডায় অবস্থিত গ্রামীন ফোন গ্রাহক সেবার কেন্দ্রীয় অফিসে যোগাযোগ করা হলে তারা পুরো উলিপুরের সমস্যার কথা স্বীকার করে এবং ২০১৮ সালের আগে ঠিক করবে না বলে জিদ দেখায়।]

– জে এম আলী নয়ন, কলামিস্ট,
কুড়িগ্রাম লাইভ ডট কম।


আপনার মন্তব্য

comments

Powered by Facebook Comments