স্বাধীনতা পরবর্তী উলিপুরের প্রথম সংসদ সদস্য ‘কানাইলাল সরকার’



জন্মঃ ১৯২৩ সালে তৎকালীন কুড়িগ্রাম মহকুমার বাগুয়া অনন্তপুর গ্রামে।
তার পিতা রজনীকান্ত সরকার একজন প্রভাবশালী জোতদার ছিলেন। এবং কানাইলাল সরকারের ভাই রমনীকান্ত সরকার ওরফে ভেলুবাবু ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভুমিকা পালন করার অপরাধে কারাবরণ করেছিলেন। তিনি রাজনৈতিক কর্মীর পাশাপাশি অভিনয় ও সংগীতেও বিশেষ দখল ছিল।

শিক্ষাজীবনঃ কানাইলাল সরকার ১৯৪০সালে আসাম প্রদেশের অন্তর্গত ধুবড়ী সরকারী বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন।

রাজনৈতিক জীবনঃ কানাইলাল সরকার ১৯৬৬-৬৮ পর্যন্ত উলিপুর প্যারিপেটেটিক ডাইভিং স্কুলের সম্পাদক ছিলন।পরবর্তীতে উলিপুর থানা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি, কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক উলিপুর কলেজের উন্নয়ন সম্পাদক এবং উলিপুর মহারাণী স্বর্ণময়ী স্কুলের সভাপতি ছিলেন।
১৯৬৯-৭১সাল পর্যন্ত তৎকালীন রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন।
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ উলিপুর থানায় যে সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় তিনি তার প্রথম কমান্ডেন্ট ছিলেন এবং সংগ্রাম পরিচালনা করেছিলেন।
স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে কানাইলাল সরকার ভারত গমন করেন এবং প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে আসামের ধুবড়ী জোনের লিবারেশন কাউন্সিলের কোষাধাক্ষ্যের দায়িত্ব পালন করেন।

স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের অবস্থা কিছুটা শান্ত হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দেন এবং নতুন সরকার গঠনের জন্য ১৯৭৩সালে সাধারণ নির্বাচনের ঘোষনা দেন। ঘোষনা দেয়া মাত্র নির্বাচনের আমেজ সারাদেশের মত উলিপুরেও ছড়িয়ে পড়ে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য উলিপুর আসন থেকে ৩জন প্রার্থী আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র দাখিল করে। সেই তিনজন যথাক্রমে- আবদুল্লাহ সোহরাওয়ার্দী, আব্দুল হাফিজ বাচ্চা মিয়া ও কানাইলাল সরকার।
কেন্দ্রীয় স্বিদ্ধান্ত মোতাবেক কানাইলাল সরকার মনোনয়ন লাভ করেন এবং বিপুল ভোটে জয়লাভ করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

জীবনাবসানঃ কানাইলাল সরকার একাধারে সংগঠন, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। এছাড়া তিনি একজন দানশীল ব্যক্তি হিসেবে সুখ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৮০ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
[তথ্য সহায়তাঃ কানন দত্ত, অসিত সরকার চপল]
– মারুফ আহমেদ,
সমাজকর্মী ও সম্পাদক,
উলিপুর উপজেলা ডট কম।


আপনার মন্তব্য

comments

Powered by Facebook Comments