‘উলিপুরে রেল সংযোগ ইতিহাস’ – মারুফ আহমেদ



১৯১১ খ্রীস্টাব্দে মহারাজা মনীন্দ্র চন্দ্র নন্দীর আমলে মহারাজার স্থানীয় কর্মচারীবৃন্দ তাদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কুড়িগ্রাম হতে উলিপুর পর্যন্ত রেল লাইন সম্প্রসারণের জন্য তৎকালীণ রেল কতৃপক্ষের নিকট আবেদন জানান। রেল কতৃপক্ষ সে আবেদনে সাড়া দিয়ে উলিপুর পর্যন্ত রেল সম্প্রসারণ বাবদ আশি হাজার টাকা দাবী করে।

মহারাজার স্থানীয় কর্মচারীবৃন্দ এই উদ্দেশ্যে প্রজাদের নিকট হতে ষাট হাজার টাকা আদায় করে বাকী টাকার জন্য মহারাজার মনীন্দ্র চন্দ্র নন্দীর নিকট প্রার্থনা জানায়। মহারাজা প্রজাদের বাহিরে যাওয়া নিষ্প্রয়োজন মনে করে এবং এলাকার মালামাল বাহিরে যাবে এবং বাহিরাঞ্চল থেকে আসা চোর-ডাকাতদের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কোনরুপ সাড়া দেননি। ফলে রেল সম্প্রসারণ উদ্যোগে ভাটা পড়ে যায়।

দিন যতই বাড়তে থাকে রেল সম্পসারণের প্রয়োজনীয়তা ও তাগিদ ততই বাড়তে থাকে। এরই মধ্যে ডাঃ আব্বাস আলী তার ক্ষুরধার লেখনীর সাহায্যে উলিপুরে রেল সংযোগের দাবি আরো জোরদার করেন। “কুড়িগ্রাম-চিলমারী রেলপথ” শিরোনামে তার দৃঢ় লেখনী রেলপথ সংযোগে আরো মাত্রা যোগ করে।

পরবর্তীতে মিয়া আব্দুল হাফিজের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও প্রাক্তন ডেপুটি স্পীকার জনাব আবুল কাশেমের সক্রীয় ভুমিকায় উলিপুরে রেল লাইন সম্প্রসারণের চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে রেল কতৃপক্ষ। অবশেষে ১৯৬৪ খ্রীস্টাব্দে তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তানের যোগাযোগ মন্ত্রী ‘খাজা হাসান আসকারী’ উলিপুরে রেল স্টেশনের ভিত্তি স্থাপন করেন এবং এ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে অগনিত লোকের আগমন ঘটেছিল।

[উল্লেখ্যঃ উলিপুরে রেল লাইন সম্প্রসারণ ও পরবর্তীতে উলিপুরে মহাসড়ক নির্মাণে ডাঃ আব্বাসের অবদান তর্কাতীত। এছাড়াও তার উদ্যোগেই হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রথম উলিপুরে আসেন। ]

– মারুফ আহমেদ


আপনার মন্তব্য

comments

Powered by Facebook Comments