ঐতিহাসিক ধামশ্রেণী ইউনিয়নের নামকরণ ও প্রাসঙ্গিক কিছু ইতিহাস (পর্ব-০১)



প্রাচীনকালে তৎকালনীন বাহারবন্দ পরগনার শাসনকেন্দ্র ছিল ‘ধামশ্রেণী ইউনিয়ন’। বাহারবন্দ পরগনার তৎকালীন শাসক রাজা রঘুনাথ রায়ের রাজবাড়ি ছিল ধামশ্রেণী ইউনিয়নে।

রাজা রঘুনাথ রায়ের স্ত্রী ও পরবর্তীতে বাহারবন্দ পরগনার শাসনকর্তী রাণী সত্যবতী ছিলেন অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ। রাণীর ইচ্ছানুযায়ী তৎকালীন সময়ে রাজা রঘুনাথ রায় প্রতিষ্ঠা করেন বেশ কিছু মন্দির বা “ধাম”।

প্রাচীন কালে রঙ্গপুর অঞ্চল তথা বাহারবন্দ পরগণা ছিল পান্ডব বর্জিত এলাকা। অর্থ্যাৎ উচ্চশ্রেণীর কোন হিন্দু কিংবা বামুন পরিবার এই অঞ্চলে ছিল না।
তাই রাজা রঘুনাথ রায় বর্ধোমানের কটোয়া থেকে তার কুলগুরু রামকিশোর ভট্রাচার্য নিয়ে আসেন এবং বহু সংখ্যক নিষ্কন্ঠক জমি প্রদান পূর্বক ধামশ্রেণীতে বসতি স্থাপন করতে অনুরোধ জানান।

রামকিশোর ভট্রাচার্য মহারাজার প্রস্তাবে রাজি হলে মহারাজা ধামশ্রেণীতে বেশকিছু মন্দির স্থাপন করেন (নির্মানের সময়কালঃ১১০২-১১০৫ বঙ্গাব্দ)। তন্মধ্যে- গোবিন্দধাম, শিবধাম, গুরুধাম, কালীধাম অন্যতম।

১৮৯৭ খ্রীস্টাব্দ মোতাবেক ১৩০৪ বঙ্গাব্দের এক প্রবল ভুমিকম্পে কালিধামের অন্তর্গত সিদ্ধেশ্বরী মন্দির ও মঙ্গল চন্ডী মন্দির ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, তবে প্রাচীন শিবমন্দির সমূহ ইউনিয়নের ‘ঠাকুরবাড়ী বাজারে’ এখনও তাদের ধ্বংসাবশেষ নিয়ে কালের সাক্ষী বহন করে আসছে।

ধাম বা মন্দিরের আধিক্যের কারণেই ইউনিয়নটির নামকরণ “ধামশ্রেণী” করা হয়। উলিপুরের অন্যান্য ইউনিয়নের নামকরণ সম্মন্ধ্যে মতানৈক্য থাকলেও ধামশ্রেণী ইনউনিয়নের নামকরণের নেপথ্যে ধাম বা মন্দির জড়িত তা সর্বজন স্বীকৃত ও যুক্তিসঙ্গত বটে।

পাঠকের জ্ঞানপিপাসার কথা মাথায় রেখে বলে রাখি, রাণী সত্যবতী  রাজ্যভার তার ভাগিনী নাটোরের রাণী ভবানীর নিকট হস্তান্তর করে কাশিবাসী হন।

পাঠকের নিশ্চয় মনে আছে আমি লেখার শুরুতেই  বর্ধমান থেকে নিয়ে আসা কুলগুরু রামকিশোর ভট্রাচার্যের কথা উল্লেখ করেছি। রাণী সত্যবতী কাশিবাসী হলেও রামকিশোর ভট্রাচার্য ধামশ্রেণীতেই থেকে যান। তার পরবর্তী বংশধর জিতেন্দ্রকিশোর ভট্রাচার্য যিনি “টোরা ঠাকুর” নামে প্রসিদ্ধলাভ করেন।
টোরা ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত ধামশ্রেণী ইউনিয়নের ঠাকুরবাড়ী বাজারে আজও প্রতিবছর মাসব্যপী বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
টোরা ঠাকুরের পু্ত্র মলয় কিশোর ভট্রাচার্য  রংপুর সরকারী বেগম রোকেয়া কলেজ ও রংপুর কারমাইকেল কলেজে অর্থনীতি বিভাগে অধ্যাপনা করে অবসর জীবন যাপন করছেন।

তথ্যসুত্রঃ লেখকের নিকট মলয় কিশোর ভট্রাচার্যের স্মৃতিচারণ ]

লেখকঃ মারুফ আহমেদ, সম্পাদক, উলিপুর উপজেলা ডট কম।


আপনার মন্তব্য

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *