ঐতিহাসিক ১৩ই নভেম্বর হাতিয়া গণহত্যা ও প্রতিরোধ



অতীতের কথা না জেনে বর্তমানের গল্পকরা মোটেও সমাচীন নয়। তাই আজকে আমি সুজলা সুফলা বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের একটি বৃহৎ উপজেলার মুক্তিযুদ্ধ ও বাঙালিদের ঘাত-প্রতিঘাত সম্পর্কে ‘ক’-‘খ’ ছত্র লেখার চেষ্টা করেছি।

সেই সাথে অতীতের স্মৃতি থেকে ধুলো ঝেড়ে বিয়োগাত্মক ও গর্বিত ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে ইতিহাসের সবচেয়ে ন্যাক্কারজনক গণহত্যগুলির একটি ১৯৭১ সালের ১৩ই নভেম্বর হাতিয়া গণহত্যা ও প্রতিরোধ যুদ্ধ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করবো।

ঐতিহাসিক ১৩-ই নভেম্বর হাতিয়া গণহত্যা ও প্রতিরোধঃ ১৯৭১ সালের ১৩ই নভেম্বর বর্তমান উলিপুরের হাতিয়ায় পাকবাহিনী কুড়িগ্রামের সবচেয়ে ভয়াবহ ও পৈশাচিক হত্যকাণ্ড সংঘটিত করে। সেদিন পাকসেনারা স্থানীয় দালাল গোলাম মাহবুব চৌধুরীর সহযোগীতায়, রাজাকার আলবদর ও আল শামসদের দেওয়া মিথ্যে তথ্যানুযায়ী তিনদিক দিয়ে ঘিরে নিরীহ বাঙালিদের উপর আক্রমন করে।

এদিনই মণ্ডলের হাট দিয়ে অগ্রসরমান পাকবাহিনীকে প্রতিরোধ করতে গিয়ে শহীদ হন মুক্তিযোদ্ধা নওয়াব,আবুল কাশেম,মোন্তাজ আলী,হীতেন্দ্রনাথ ও গোলজার হোসেন। পাকবাহিনী সকল প্রতিরোধ ভেঙ্গে হাতিয়ায় প্রবেশ করে এলোপাথারি গুলি ছোঁড়ে এবং বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। সেদিন নির্দয় পাকবাহিনী ৭৬৪ জন নিরীহ সাধারণ মানুষকে হত্যা করে। “অঞ্চল ভিত্তিক মুক্তিযুদ্ধে নিহতের আমরা যে সামান্য হিসেব পাই সেই অনুপাতে কুড়িগ্রামের ১০০০০ হাজার মানুষ পাকিস্তানিদের হাতে নিহত হয়েছিল।

সেই হিসেবের অনুপাতে এই দিনে এই এলাকায় সবচেয়ে বেশি মানুষ (প্রায় ১০০০ জন) মারা গিয়েছিল ।

“রাজাকার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধা সাহেব আলীকে ধরে পাকবাহিনীর হাতে তুলে দেয়। জাল্লাদ পাকবাহিনী তাকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্য করে। এছাড়াও এই দিনে মোগলবাসার নুর সহ আরো অনেক মুক্তিযোদ্ধা ও নিরহ বাঙালী শহিদ হন। সাহায্য সংস্থা প্রশিকা পরবর্তী সময়ে হাতিয়া গণহত্যার শিকার বাঙালিদের একটি তালিকা প্রণয়ন করে। যাতে ৪১১ জনের নাম পাওয়া যায়।

১৩-ই নভেম্বরের ন্যাক্কারজনক সেই গণহত্যার সাক্ষী হয়ে শরীরে অসংখ্য জখমের চিহ্ন নিয়ে আজো বেঁচে আছেন, অনন্তপুরে ফয়েজ উদ্দিন,বাবর উদ্দিন, কাদিম সেখ, কুড়ার পাড়ের কামাল হোসেন ও বামনীর মুখের জহির উদ্দিন।

 

তথ্যসুত্রঃ মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক ইতিহাস রংপুর, রাজাকার সমগ্র। (মিনহাজ মিজান)

 

উলিপুর উপজেলা ডট কম/ category/ মুক্তিযুদ্ধ/ মিনহাজ মিজান

আপনার মন্তব্য

comments

Powered by Facebook Comments

২ thoughts on “ঐতিহাসিক ১৩ই নভেম্বর হাতিয়া গণহত্যা ও প্রতিরোধ

Comments are closed.